শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় দেশের একটি প্রাচীন বিদ্যাপীঠ। ১৮৫৭ সালের পর বিদেশী ইংরেজ শাসকগোষ্ঠি তাদের শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে স্থানীয় জনগনকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার প্রয়োজন অনুভব করে।

এরই ধারাবাহিকতায় উপমহাদেশের সর্বত্র বিভিন্ন ধরণের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যেগ নেয়। বলাই বাহুল্য, বিদ্যালয়গুলির শিক্ষার মাধ্যম ছিল ইংরেজী ভাষা।

এরকম একটি বিদ্যালয় তৎকালীন পাবনা জেলার শাহজাদপুর থানা সদরে ১৮৮২ সালে শাহজাদপুর হাই ইংলিশ স্কুল নামে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে সরকারের শিক্ষানীতির পরিবর্তনের কারণে বিদ্যালয়ের নামও পরিবর্তীত হতে থাকে, বর্তমানে যা শাহজাদপুর সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল নামে পরিচিত।

বিদ্যালয়টি জন্মলগ্ন থেকেই শিক্ষা, সংষ্কৃতি, খেলাধুলায় প্রচুর সুনাম অর্জন করলেও বিগত একশত বছরে বিদ্যালয় কেন্দ্রিক কোন এলামনাই এসোসিয়েশন গড়ে ওঠেনি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিধন্য এই বিদ্যালয়ের একটি এলামনাই এসোসিয়েশন গড়ে তোলার স্বপ্নে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র তুহিন হাসান চৌধুরী কাফী, রকীব আহমেদ, জহুরুল ইসলাম মুক্তি, তাহাজ্জদ হোসেন সহ কয়েকজন ধারাবাহিক বৈঠক করেন।

এইসব বৈঠকের ফলমশ্রুতিতে ২০১৭ সালের ২৪ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটারিয়াতে বিদ্যালয়ের নবীন প্রবীন ছাত্রদের স্বত:স্ফুর্ত অংশগ্রহনে এক মিলনমেলার আয়োজন হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে এলামনাই এসোসিয়েশন গঠনের কার্যক্রম গ্রহন করা হয়।

এই উদ্যেগকে বেগবান করার জন্য ২০১৮ সালের ৯ ফেব্রুয়ারী এক বনভোজনের আয়োজন করা হয়। এই বনভোজন থেকেই মুলত: এলামনাই এসোসিয়েশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে বাৎসরিক বনভোজন, ঈদ পুনর্মিলনী, ইফতার মাহফিল, এলামনাইদের বিভিন্ন ধরণের সহায়তা প্রদান এবং করোণাকালীন সময়ে সমাজের দু:স্থদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। মুলত: বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের মাঝে যোগাযোগ স্থাপন এবং একটি ব্রহত্তর প্লাটফর্ম তৈরীর মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগীতার হাত প্রসারিত করা এসোসিয়েশনের ঘোষিত লক্ষ্য। এর পাশাপাশি বিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি প্রদান এবং পাঠক্রম বহির্ভুত শিক্ষামুলক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে উৎসাহিত করণ। 

এসোসিয়েশনের সার্বিক কর্মকান্ডের সাথে এলামনাইবৃন্দ বরাবরের মত যুক্ত থেকে সংগঠনকে গতিশীল করবে এটাই এলামনাই এসোসিয়েশনের প্রত্যাশা।